মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মেদিনী মন্ডল এলাকায় রাস্তায় পড়ে থাকা ইট দিয়ে পুলিশের এএসআই বোরহান উদ্দিনকে আঘাত করা ঘটনার মামলায় শ্রী সুমন দাস (৩৫) নামের এক আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত। একি সাথে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদয়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১ টার দিকে মুন্সীগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক গাজী দেলোয়ার হোসেন এ রায় দেন। এ সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিল। পূর্বে তার জামিন বাতিল করা হয়েছে।
সাজাপ্রাপ্ত আসামি সুমন দাস শ্রীনগর উপজেলার সুরদিয়া দাসপাড়া গ্রামের শ্রী শান্তি দাসের ছেলে।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ৮ টার দিকে লৌহজং উপজেলার মাওয়া চৌরাস্তা হতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে উপজেলার দক্ষিণ মেদিনী মন্ডল মাওয়া সুপার মার্কেট মেইন রোডে মাদকদ্রব্য ক্রয় বিক্রয় করিতেছে এক কতিপয় যুবক। এ সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশের টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা কালে এবং সে সময় গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য রাস্তায় পড়ে থাকা ইট দিয়ে লৌহজং থানার কর্মরত পুলিশের এএসআই মোঃ বোরহান উদ্দিন এর কপালে আঘাত করে গুরুতর জখম করে ওই যুবক। এ সময় সঙ্গীয় কনস্টেবল জিয়াউর রহমান এএসআই বোরহানউদ্দিনকে রক্ষার চেষ্টা করলে ওই যুবক তাকেও কিল ঘুষি মেরে নিলা ফুলা যখন করে। এ সময় উপস্থিত জনগণের সহায়তায় ওই যুবককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় আহত পুলিশ বোরহান উদ্দিন।
এ সময় তার দেহ তল্লাশী করে পরিহিত ট্রাউজারের পকেট হতে একটি সাদা পলিজিপার ব্যাগে রক্ষিত ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১০০ গ্রাম গাঁজা নিজ হাতে বের করে দিলে আলামত সহ তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এ সময় তার নাম শ্রী সুমন দাস বলে পুলিশকে নাম ঠিকানা প্রকাশ করে।
আটকৃত সুমন দাস এর বিরুদ্ধে মাদক আইনে ভিন্ন মামলা সহ পুলিশকে আঘাত করায় ২০১৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি লৌহজং থানায় পুলিশের এএসআই মোঃ বোরহান উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশকে আঘাত করা মামলায় ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আসামি শ্রী সুমন দাসকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় ঘোষণা করেন। আসামি সুমন দাস পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ান ইস্যুর নির্দেশ দেন বিচারক।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারি বুলবুল আহমেদ জানান,আসামি সুমন দাস নামে এক আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায় আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত।
এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট আরিফ আহমেদ জানান, সরকারি ডিউটি করা কালীন সময়ে পুলিশের কাজে বাধা ও পুলিশের উপর আঘাত করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। সুমন দাস নামে এক আসামি মাদক বিক্রির সময় নিজেকে এড়ানোর জন্য রাস্তায় পড়ে থাকা ইট দিয়ে পুলিশের লৌহজং থানার পুলিশের এএসআই বোরহান উদ্দিনকে আঘাত করা ও অপর পুলিশের কনস্টেবল জিয়াউর রহমানকে মারপিট করা মামলায় আসামি সুমন দাসকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। এ রায়ে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।