আসন্ন মীরকাদিম পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পৌরসভার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হোসেন রেনু। পৌর এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি। নির্বাচিত হলে দুর্নীতিমুক্ত, জনবান্ধব, আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক পৌরসভা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন এই সাবেক মেয়র।
২০০৪ সালের মীরকাদিম পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাফিজুল্লাহ মন্টু মাস্টারকে পরাজিত করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হন মোহাম্মদ হোসেন রেনু। দায়িত্ব পালনকালে নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পৌরবাসীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
রেনুর ভাষ্য অনুযায়ী, তার মেয়াদকালে জন্মনিবন্ধন ও হোল্ডিং ট্যাক্সসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা সহজ ও সহনীয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে নতুন রাস্তাঘাট, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ এবং পুরোনো সড়ক সংস্কারের কাজ করা হয়।
তিনি বলেন, কমলাঘাট ওসমানগণি ব্রিজটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর নিজ উদ্যোগে সংস্কার করে জনগণের চলাচলের উপযোগী করা হয়েছিল। বর্তমানে ওই সড়ক দিয়ে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চলাচল করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সাবেক মেয়রের কয়েকজন সমর্থক বলেন, রেনু মেয়র থাকাকালে মীরকাদিমে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও ভূমিদখলের মতো কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ছিল। তাদের দাবি, সে সময় পৌর এলাকায় তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল। এ কারণে তারা তাকে আবারও মেয়র হিসেবে দেখতে চান।
নিজের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে মোহাম্মদ হোসেন রেনু বলেন, “আমি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার অনেক আগে থেকেই মীরকাদিমবাসীর উন্নয়নে কাজ করে আসছি। এরশাদ সরকারের আমলে যোগাযোগমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর দায়িত্বকালীন সময়ে রামপাল-দিঘিরপাড় সড়কটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করি।”
তিনি আরও বলেন, তৎকালীন সময়ে রিকাবীবাজারের রামগোপালপুর মোড়ের স্থাপনা অপসারণ ও জমি অধিগ্রহণের ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি সিপাহীপাড়া মোড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ৮০ ফুট প্রশস্ত সড়ক বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন বলে দাবি করেন তিনি।
রেনু আরও দাবি করেন, তার তত্ত্বাবধানে সিপাহীপাড়া থেকে মীরাপাড়া হয়ে ছৈয়ালবাড়ি পর্যন্ত সড়কের পাশে পুকুরপাড়ে গাইডওয়াল নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া মীরকাদিম পৌরসভার বিভিন্ন মহল্লায় গ্যাস সংযোগের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রেখেছেন।
মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মীরকাদিম পৌরবাসীর জন্য যা যা উন্নয়ন করেছি, তা পৌরবাসীই ভালো জানেন। আমি কখনো জনগণের ওপর শাসন করতে চাইনি; বরং তাদের পাশে থেকে সেবা করার চেষ্টা করেছি।”
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে মোহাম্মদ হোসেন রেনু বলেন, “মীরকাদিম পৌরসভার বর্তমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পৌরবাসীর প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে এবং জনগণের ভালোবাসা ও সাড়া পেয়ে আবারও মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, মীরকাদিমবাসী যদি আমাকে পূর্ণ সমর্থন দেন, তাহলে তাদের দোয়া ও সমর্থন নিয়ে একটি দুর্নীতিমুক্ত, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক পৌরসভা গড়ে তুলতে কাজ করব।”
তিনি জানান, পৌরবাসীর প্রত্যাশা পূরণ, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের মাধ্যমে মীরকাদিমকে একটি আধুনিক পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য।
তবে আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের সমর্থন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং সামগ্রিক নির্বাচনী পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করবে মেয়র পদে তার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা।