প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীদের পুনঃএকত্রীকরণ, পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে মুন্সীগঞ্জে রেফারেল পথনির্দেশনা ও সেবা সংযোগ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ব্র্যাকের আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ‘রিইন্টিগ্রেশন অব মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় কর্মশালাটির আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।
এ সময় মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুবায়ের হোসেন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আলাল উদ্দিন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, এনজিও প্রতিনিধি এবং প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীদের নিয়ে কাজ করায় ব্র্যাকের প্রশংসা করেন। তিনি প্রত্যাগত কর্মীদের পুনঃএকত্রীকরণ ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি তাদের আর্থ-সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীদের অনেকেই আবার বৈধ ও নিরাপদ উপায়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে আরও বেশি সংখ্যক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক বৈধ ও নিরাপদ উপায়ে বিদেশ যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বৈধ নথি না থাকায় অনেক সময় দুর্ঘটনা বা বিপদের শিকার হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তাই বিদেশ যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ, বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণের পরামর্শ দেন তিনি।
বিদেশগমনেচ্ছুদের দালাল বা অননুমোদিত ব্যক্তির মাধ্যমে বিদেশ না গিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। একই সঙ্গে প্রতারণা, অবৈধ অভিবাসন ও অনিরাপদ যাত্রার ঝুঁকি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
কর্মশালায় প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীদের জন্য বিদ্যমান সরকারি ও বেসরকারি সেবা, প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার পদ্ধতি, সেবা প্রদানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং প্রত্যাগত কর্মীদের পুনঃএকত্রীকরণ ও পুনর্বাসনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।