মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভার স্থানীয় রাজনীতিতে গ্রুপিং ও লবিংকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এক রাজনৈতিক নেতা। তিনি মনে করেন, রাজনীতিতে মতপার্থক্য ও গ্রুপিং থাকতেই পারে, তবে তা যেন দলীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে বিভাজন ও সংঘাতের কারণ না হয়।
সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, অতীতেও মিরকাদিম পৌরসভায় রাজনৈতিক গ্রুপিং ছিল। তবে তখনকার গ্রুপিং ছিল ‘সাবলীল’ এবং মূলত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকেন্দ্রিক। বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটিকে তিনি রাজনীতির নামে ‘নোংরামি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “আমার কথা অনেকের তিতা লাগতে পারে, তাতে কোনো সমস্যা নেই। বর্তমান পরিস্থিতির জন্য প্রথমত সিনিয়র নেতৃবৃন্দই দায়ী। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের দোসরদের দলে সুযোগ করে দেওয়ার ঘটনায় দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা অনেক নেতাকর্মী কষ্ট পেয়েছেন। সিনিয়রদের সামনে বিষয়টি বলতে না পারলেও তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ।”
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় নির্বাচন করা, মেয়র হওয়ার চেষ্টা করা—এসব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বাভাবিক অংশ। তবে স্থানীয় নির্বাচনকে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে এক করে ফেলাটা সমীচীন হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তার দাবি, চলমান গ্রুপিংয়ের কারণে মিরকাদিম পৌরসভার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে জেলার নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য জননেতা কামরুজ্জামান রতনও বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
এ সময় মিরকাদিম পৌরসভার দলপ্রেমী নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ ও গ্রুপিংয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দলের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, “মিরকাদিম পৌরসভায় যারা দলপ্রেমী আছেন, আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া এবং তারুণ্যের অহংকার দেশনায়ক জনাব তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মিরকাদিম পৌরসভার রাজনীতিতে সাম্প্রতিক বিভাজন ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব নিয়ে প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে বক্তব্যে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।