মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের শিমূলঘর গ্রামে কুলখানির খাবার খেয়ে কয়েক শত মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুদের অবস্থা বেশি আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সোমবার (৫ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক দেড়টার পর থেকে একে একে গ্রামবাসীরা অসুস্থ হতে শুরু করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিমূলঘর দক্ষিণ গ্রামের বাসিন্দা মো. মিঞা হোসেন চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার (৪ ডিসেম্বর) তাঁর পরিবার কুলখানির আয়োজন করে। তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল মিয়ার শ্বশুর। এ উপলক্ষে দুটি মহিষ জবাই করে গ্রামবাসী ও আগত অতিথিদের জন্য জিয়াফতের ব্যবস্থা করা হয়।
খাবার গ্রহণের কিছু সময়ের মধ্যেই বহু মানুষের ডায়রিয়া, পেটে তীব্র ব্যথা, বমি ও শারীরিক দুর্বলতার উপসর্গ দেখা দেয়। একপর্যায়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ছাতিয়াইন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. নান্নু মিয়া জানান, খাবার খাওয়ার পর থেকেই তিনি পাতলা পায়খানা ও পেটে ব্যথায় ভুগছেন। ফাঁড়ির এসআই মাসুদও একই ধরনের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান।
শিমূলঘর গ্রামের দোকানদার টিপন মিয়া বলেন, “আজ আমার ছোট ভাইয়ের বিয়ে ছিল। কিন্তু কুলখানির খাবার খাওয়ার পর আমি ও আমার পরিবারের সবাই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছি।”
স্থানীয় বিএনপি নেতা এফ জামান বলেন, “আমিসহ গ্রামের শত শত মানুষ ওই খাবার খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছি।”
মাধবপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাংবাদিক এম এ কাদের বলেন, “আমি নিজেও অসুস্থ। সকাল থেকে স্থানীয় ফার্মেসিগুলোতে ওষুধ কিনতে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।”
স্থানীয় ফার্মেসি ব্যবসায়ী শাহ মামুন জানান, ফজরের নামাজের পর থেকেই শত শত মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ওষুধ নিচ্ছেন। তিনিও ওই খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়েছেন বলে জানান।
ইউপি সদস্য কামাল মিয়া বলেন, তিনি তাবারক হিসেবে মাত্র দুই টুকরা মাংস খেয়েছিলেন। অল্প খাবার গ্রহণ করার পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইমরুল হাসান বলেন, খাবারজনিত বিষক্রিয়ার কারণে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গুরুতর অসুস্থদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় গ্রামবাসীদের অনেকেই রান্নার দায়িত্বে থাকা বাবুর্চির দিকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তবে সংবাদ লেখা পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে বাবুর্চি মাফুজ মিয়া জানান, খাবার প্রস্তুতের সময় সয়াবিন তেল, টেস্টি সল্ট অথবা মসলা জাতীয় কোনো উপকরণে সমস্যার কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে তাঁর ধারণা। তবে যিনি সরাসরি রান্নার কাজ করেছেন, তিনিই প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন।