মুন্সীগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, পিপিএম। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মুন্সীগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নিশাত নাহার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা নাহার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রফিকুল হক, শরীফ উল্যাহ ও এ. কে. এম. নূর হোসেন নির্ঝর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, প্রেসক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান টিপু ও সাধারণ সম্পাদক মো. গোলজার হোসেনসহ সরকারি কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে। দেশের ইতিহাসকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনাবলির যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। ইতিহাস বিকৃত না করে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও অবদান তুলে ধরার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে অবদান, দেশপ্রেম, সততা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশ্রাফী বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এ দিবস জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি, দেশপ্রেম এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের গুরুত্ব উপলব্ধির সুযোগ সৃষ্টি করে।
তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ। স্বাধীনতার মর্যাদা সমুন্নত রাখা, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। জাতীয় স্বার্থে বিভেদ ভুলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সবাইকে কাজ করতে হবে।
এ সময় তিনি ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি ও রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের সমান মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তারা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য, জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের চেতনা এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সম্মিলিত দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আলোচনা সভা শেষে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিবৃন্দ।