গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার মধ্যম বাউশিয়া মৌজায় পৈতৃক সম্পত্তির আরএস রেকর্ডে ভুল এবং এজমালি সম্পত্তিতে থাকা রাস্তা বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিলো এর প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি পক্ষ।
শনিবার (২৩ মে) বিকেলে লক্ষীপুরা গ্রামে এই বিষয়ে প্রতিকার এবং নিজেদের নিরাপত্তা দাবি করে ভুক্তভোগী ইয়াসিন-রাজিব গং এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত তথ্য ও আদালতের নথি অনুযায়ী, মধ্যম বাউশিয়া মৌজায় সিএস ও এসএ দাগ নং- ৭৯৪ এবং আরএস দাগ নং- ৭২৪ এর মোট ৪৩ শতাংশ সম্পত্তি নিয়ে মুন্সীগঞ্জ বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা চলমান রয়েছে। মামলার বাদী পক্ষের দাবি, সিএস এবং এসএ রেকর্ডে তাদের পৈতৃক মালিকানা ও জমির পরিমাণ সম্পূর্ণ সঠিক ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আরএস রেকর্ডে করণিক ভুল বা রহস্যজনক কারণে বিবাদী পক্ষের নামে অতিরিক্ত সম্পত্তি লিপিবদ্ধ হয় এবং বাদী পক্ষের সম্পত্তির পরিমাণ কমে যায়। বিবাদীপক্ষ এই ভুল রেকর্ডের মাধ্যমে নামজারি করে তা তৃতীয় পক্ষের কাছে জমি বিক্রি করে দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ইয়াসিন সরকার বলেন, “আমরা পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত কোনো সম্পত্তি বিক্রি করিনি। সিএস এবং এসএ রেকর্ডে আমাদের মালিকানা ঠিক ছিল। কিন্তু আরএস রেকর্ডে ভুল হওয়ায় আমাদের জমির পরিমাণ কম দেখানো হয়েছে। এই ভুলের বিরুদ্ধে আমরা আদালতে মামলা করেছি। মামলা করায় আমাদের প্রতিপক্ষ নিজেদের অবস্থান বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি করে জমিটির একটি বড় অংশ তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। মামলা চলাকালীন বিরোধপূর্ণ জমি বিক্রি করার কোনো আইনি সুযোগ নেই।”
চলাচলের রাস্তা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ প্রসঙ্গে অপর ভুক্তভোগী রাজিব সরকার বলেন, “এটি এজমালি সম্পত্তি। এখানে উভয় পক্ষের যাতায়াতের জন্য একটি সাধারণ রাস্তা উন্মুক্ত রাখার কথা ছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষ সেই রাস্তাটি বন্ধ করার চেষ্টা করলে গত ১৫ মে রাতে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে দুই পক্ষেরই কয়েকজন আহত হন। তারা আমাদের বিরুদ্ধে হামলার যে অভিযোগ করছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
এদিকে আরএস রেকর্ডকে সম্পূর্ণ সঠিক দাবি করে প্রতিপক্ষের হারুন-অর-রশিদ পাল্টা অভিযোগ করেন। তিনি জানান, এই সম্পত্তি আইনগতভাবে আমাদের। বিগত আরএস রেকর্ডে আমাদের নামেই জমিটি শুদ্ধভাবে লিপিবদ্ধ ও প্রচারিত হয়েছে।
আমরা নিয়ম মেনে সরকারি নামজারি শেষ করে এবং বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করছি। এখন ইয়াসিন গং জোরপূর্বক আমাদের জমি দখল করতে চায়। গত ১৫ মে রাতে আমরা তাদের বাধা দিলে তারা উল্টো আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং বাড়িঘরে লুটপাট করে।
প্রসঙ্গতঃ উপজেলার মধ্যম বাউশিয়া মৌজার ৪৩ শতাংশ নালিশী সম্পত্তি নিয়ে আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদনও করা হয়েছে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার মাঝেই জমি বিক্রি এবং রাস্তা বন্ধের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।