মুন্সীগঞ্জে এবার প্রথমবারের মতো এক পোষা বিড়াল যাচ্ছে বিদেশে। পরিবারের সদস্যের মতো লালন করা ‘ক্যান্ডি’ নামের বিড়ালটিকে নিয়ে ইতালিতে পাড়ি জমাচ্ছেন মুন্সীগঞ্জ শহরের মানিকপুরের রিক্তা বেগমের পরিবার। ক্যান্ডিকে সঙ্গে নিতে খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা।
রিক্তা বেগম ২০২১ সালে অনলাইনে ১৫ হাজার টাকায় কেনেন বিড়ালটি। এরপর থেকেই এটি তাদের পরিবারের অংশ হয়ে ওঠে। ছেলে স্বপ্নীল হাসান শিথিল এখন এইচএসসি পাস করেছেন, আর স্বামী আব্দুল হাই ইতালির রোমে চাকরি করেন। এবার পরিবারের সবাই মিলে রোমে যাচ্ছেন, সঙ্গে থাকবে প্রিয় ক্যান্ডিও।
রিক্তা বেগম বলেন, “আমরা যেভাবে ক্যান্ডিকে লালন করেছি, এখন সে আমাদের পরিবারের একজন সদস্যের মতো। বাইরে গেলে খাওয়া বন্ধ করে দেয়, তাই ওকে ছাড়া যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব না।”
ক্যান্ডির বিদেশযাত্রায় রয়েছে নানা আনুষ্ঠানিকতা—বিশেষ খাঁচা, বিমানভাড়া, সরকারি অনুমতি, পাসপোর্ট ও ট্রানজিট ক্লিয়ারেন্সসহ সব মিলিয়ে খরচ পড়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। শুধুমাত্র বিমানের টিকিটই ৩৫০ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৪০ হাজার টাকা।
মুন্সীগঞ্জের টিটলার্ক পেটওয়েল সেন্টারের ভেটেরিনারি কনসালট্যান্ট ও সার্জন ডা. শিবেন চন্দ্র লিটন বলেন, “বিদেশে প্রাণী নিতে আন্তর্জাতিক নিয়ম কঠোরভাবে মানতে হয়। ক্যান্ডির টিকা, স্বাস্থ্য সার্টিফিকেট ও মাইক্রোচিপ স্থাপন সম্পন্ন করা হয়েছে। স্ক্যান করলে তার ইউনিক নম্বর দেখা যায়।”
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা এম এ জলিল বলেন, “আমাদের তথ্য অনুযায়ী, মুন্সীগঞ্জ থেকে এবারই প্রথম কোনো পোষা বিড়াল বিদেশে যাচ্ছে। এটি প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা ও মমত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ।”
পেট পাসপোর্টে ক্যান্ডির ছবি, জাত, বয়স, ওজন, টিকা ও চিকিৎসা ইতিহাস যুক্ত করা হয়েছে। ডমেস্টিক মিক্সড জাতের বিড়ালটির ওজন প্রায় ছয় কেজি। নিয়ম অনুযায়ী ক্যান্ডিকে বিমানের কেবিনে হাতব্যাগের মতো বহন করা হবে।
পরিবারটির সদস্যরা বলছেন, বিদেশযাত্রা যতই কঠিন হোক, ক্যান্ডিকে সঙ্গে নেয়া ছাড়া বিকল্প ছিল না। তাদের কাছে ক্যান্ডি এখন শুধু পোষা প্রাণী নয়—এটি পরিবারের আনন্দ ও ভালোবাসার প্রতীক।