নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারকে (৮) ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার বর্বরোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ রবিবার (৭ জুন, ২০২৬) বেলা ১১টা ৩৭ মিনিটে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির এই আদেশ দেন।
মামলার বিবরণ ও দ্রুততম বিচার
গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখে মিরপুরের পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তার এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিচার নিশ্চিতের দাবি ওঠে।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আজ চূড়ান্ত রায় ঘোষণা পর্যন্ত মাত্র ১৯ দিন সময় লেগেছে, যা বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে রায় ঘোষণার একটি অনন্য ও ঐতিহাসিক নজির সৃষ্টি করেছে।
বিচার প্রক্রিয়ার উল্লেখযোগ্য টাইমলাইন:
ঘটনার তারিখ: ১৯ মে, ২০২৬।
দ্রুততম চার্জশিট: ঘটনার পর তদন্ত শেষে মাত্র ৫ দিনের মাথায় (২৪ মে) পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
মাত্র ৪ কার্যদিবসে শুনানি: আদালত মাত্র ৪ কার্যদিবসের মধ্যে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও আইনজীবীদের যুক্তিতর্কসহ যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
চূড়ান্ত রায়: আজ ৫ম কার্যদিবসে আদালত দুই আসামিরই মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রধান আসামি সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং মামলার অন্যান্য সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ সম্পূর্ণভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এই রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।