নিজস্ব প্রতিনিধি
পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ বাঙালী জাতীর একটি সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। কারণ সব দলের, সব মতের, সব ধর্মের, সব বর্ণের মানুষ এই উৎসবে অংশ গ্রহণ করতে পারে।
বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রধান ও সর্বজনীন লোকউৎসব, যা বৈশাখ মাসের ১ তারিখে সাধারণত ১৪ এপ্রিল কখনো ১৫ এপ্রিল পালিত হয়। এটি পুরনো বছরের গ্লানি ভুলে নতুন আশা ও উদ্দীপনা নিয়ে বাঁচার প্রতীক । মোগল সম্রাট আকবরের আমলে খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে প্রবর্তিত এই উৎসব বর্তমানে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বাঙালির প্রাণের মেলায় পরিণত হয়েছে ।
বাংলা নববর্ষ:
উৎসবের আনন্দ ও ঐতিহ্যসূচনা ও ইতিহাস: মোগল সম্রাট জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ আকবর ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে (৯৬৩ হিজরি) বাংলা সনের প্রচলন করেন, যা ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়।
হালখাতা: বৈশাখী উৎসবের অন্যতম ঐতিহ্য হলো ‘হালখাতা’। ব্যবসায়ীরা বছরের পুরনো হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খোলেন এবং গ্রাহকদের মিষ্টিমুখ করান।
সাংস্কৃতিক উৎসব: দিনটি শুরু হয় রমনার বটমূলে ‘ছায়ানট’-এর আয়োজনে এবং মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে। লাল-সাদা পোশাকে সেজে মানুষ গান-বাজনা ও বৈশাখী মেলায় মেতে ওঠে । এই দিনদিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সামাজিক সংগঠন জনজীবন ফাউন্ডেশন আলোচনা সভা, সাহিত্য আড্ডা ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে।
খাদ্যাভ্যাস: পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার প্রচলন জনপ্রিয়, যদিও এটি প্রথাগত খাবার ছিল না। এছাড়া বাড়িতে বিভিন্ন রকমের পিঠা-পুলি ও সুস্বাদু খাবারের আয়োজন করা হয় ।
সর্বজনীনতা: বৈশাখী মেলায় মাটির পুতুল, কুটির শিল্প, মিষ্টি ও খাবারের দোকান বসে। এটি বাঙালি সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরে । অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও বাংলা নববর্ষে বৈশাখী মেলার আয়োজন করতে যাচ্ছে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের বাসিন্দারা। এই মেলায় এখানে দূর দূরান্ত থেকে লোকজন আসে। এখানো উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।
বাংলা নববর্ষ বাঙালিদের একতার প্রতীক। এটি আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও চেতনাকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনায় নতুন বছরকে বরণ করে নিতে শেখায়।