সংবাদ শিরোনাম :
যশলং ইউপি নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সাইদুর রহমান বাবুলকে চান এলাকাবাসী সাংবাদিক লিটন মাহমুদের বাবা চ্যানেল আই  ইমপ্রেস গ্রুপের হেড অব ফাইন্যান্স ওয়ালি মাহমুদ আর নেই। শিলই ইউনিয়নে আইন সহায়তা মানবাধিকার সংস্থার শাখা কার্যালয়ের উদ্বোধন সুনামগঞ্জের নতুনপাড়ায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের অফিস উদ্বোধন করেন পৌর প্রশাসক অসীম চন্দ্র বণিক ডেঙ্গু প্রতিরোধে মুন্সীগঞ্জে কাটাখালী খাল পরিষ্কার অভিযান শিক্ষা অনুরাগী ও মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার মফিজুল ইসলামআউটশাহী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা জনপ্রিয়তার অপর নাম আছমা আক্তার ,শিক্ষা রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে জনসম্পৃক্ত সাবেক প্যানেল মেয়র মুন্সীগঞ্জে ডিবির অভিযানে ৭০০ পিস ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার ডুলাহাজারায় সংরক্ষিত বনভূমি দখলের মহোৎসব, উচ্ছেদের পরেই আবার দখল মুন্সীগঞ্জে পুলিশের ২৪ ঘণ্টার অভিযানে মাদকসহ গ্রেপ্তার ২৭
**রাতের আঁধারে দাফন, পুলিশের অজ্ঞাতে সমঝোতা এইচএসসি ছাত্রী সালেহা আক্তারের মৃত্যু ঘিরে রহস্য ও বিতর্ক**

**রাতের আঁধারে দাফন, পুলিশের অজ্ঞাতে সমঝোতা এইচএসসি ছাত্রী সালেহা আক্তারের মৃত্যু ঘিরে রহস্য ও বিতর্ক**

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের গোপাল নগরে মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সালেহা আক্তার (১৮) এর মৃত্যু ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রথমে হত্যার অভিযোগ উঠলেও পরে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সমঝোতার মাধ্যমে পুলিশকে অবহিত না করেই রাত সাড়ে ১০টার দিকে লাশ দাফন করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিহত সালেহা আক্তার গোপাল নগর এলাকার ভাড়াটিয়া লিটনের মেয়ে। শনিবার সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে তার মৃত্যু হয়। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিহতের মা হামিদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সাত ঘাটের পানি মেয়েকে দিয়েই আনা হয়েছে। মেয়ের ঠান্ডাজনিত রোগ ছিল। কিছুদিন আগে অপারেশনও করা হয়েছিল।’ তবে কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।

এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, মাছ ব্যবসায়ী ইলিয়াসের বাড়িতে প্রায়ই রাত যাপন করত সালেহা। তাদের দাবি, ইলিয়াস একজন অর্থশালী ব্যক্তি এবং তার বিরুদ্ধে নারীদের প্রতি দুর্বলতার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, কোনো এক ঘটনায় সালেহা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে এবং বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই দ্রুত সমঝোতার মাধ্যমে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, গোপনীয়ভাবে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে সালেহার পরিবারের সঙ্গে সমঝোতা করা হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। তাদের ভাষ্য, নিহতের বাবা ও ভাই নেশাগ্রস্ত হওয়ায় সহজেই অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, ফকির হিরার মাধ্যমে কালো জাদু প্রয়োগ করে প্রভাবশালী মাছ ব্যবসায়ী ইলিয়াস সালেহাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। তবে এ দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি।

সব অভিযোগ অস্বীকার করে মাই ফরাশ মাছ ব্যবসায়ী ইলিয়াস বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মেয়েটিকে নিজের সন্তানের মতো করে লালন-পালন করেছি। তার চিকিৎসার খরচও দিয়েছি। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সেটি আমার জানা নেই।’

ইলিয়াসের ছেলে শামীম বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি গত রাতেই মিমাংসা হয়েছে। মিমাংসার পর লাশ দাফন করা হয়। মেয়েটি আমাদের বাসায় কাজ করত। তার বাবা ও ভাই নেশাগ্রস্ত হওয়ায় সে সেখানে থাকতে ভয় পেত।’

স্থানীয় সূত্র জানায়, সন্ধ্যা আনুমানিক ৫টার দিকে সালেহার মৃত্যু হয় এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে দাফন সম্পন্ন করা হয়। পুলিশকে অবহিত না করেই দাফন সম্পন্ন হওয়ায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা বা অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমি এই মেয়েটির মৃত্যুর বিষয়ে কিছুই জানি না। ঠান্ডাজনিত কারণে মারা গেছে শুনেছি। দাফনের জন্য সমস্যা হওয়ায় আমি দুই হাজার টাকা দিয়েছিলাম। কোনো ধরনের সমঝোতা বা বিচার-শালিশ সম্পর্কে আমি অবগত নই।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে ঘটনার প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box





  1. © স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ দৈনিক নাগরিক বাণী
error: Content is protected !!