মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দু’দফা হামলায় ২ ভাইসহ তিনজনকে দেশীয় অস্ত্রের হামলায় আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের গনকপাড়া এলাকার প্রয়াত আবুল কামেম খালাসীর দুই ছেলে মো. আলাল খালাশী (৪৫) ও মো. দুলাল খালাসী (৩৬) এবং আলালের চাচি আলেনুর বেগম (৭০)। পরে তাদের স্হানীয়রা উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অভিযুক্তরা হলেন, রাজিব হোসেন (৩০) গনকপাড়া এলাকায় আলম মেয়ের জামাই, পিয়াস (৩২), লিটন (৩২) পিতা- মোতাহার, শামীম (৩০) পিতা- রহিম বাদশা, অনিক (২৫) পিতা- জাহাঙ্গীর হোসেন সহ ১০ /১২ জন চাপাতি, লোহার রড ও লাঠিসোঠা দিয়ে হামলা চালায়।
আহত ও স্হানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতা ও ডাব পারাকে কেন্দ্র করে শনিবার দুপুরে দুলাল খালাসীর সাথে এলাকার আলম মিয়ার মেয়ের জামাই রাজিব হোসেন (৩০) সাথে গনকপাড়া ডাব বাগানে তর্ক হয়। পরে রাত পোনে ৮ দিকে দুলাল খালাসীর ডাব বাগান এলাকা দিয়ে যেতে থাকলে আগ থেকে ওতপেতে থাকা রাজিব গংরা দেশীয় অস্ত্র, লোহার পাইপ ও লাঠিসোঠা দিয়ে হামলা করে তাদের আহত করেন।
এরপর রাত সাড়ে ৮ টার দিকে ভাই আলাল খালাসী ও চাচিকে গনকপাড়া মিলনক্লাব এলাকায় দ্বিতীয়বার হামলা করে আহত করেন। এতে চাচি আলেনুর বেগমকে স্হানীয় ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। আলাল ও দুলালকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত দুলাল খালাসী বলেন, জামাই রাজিব ও পিয়াসের সাথে দুপুরে আমার ডাব পারাকে কেন্দ্র করে তর্ক হয়। রাতে ডাব বাগান এলাকায় আমাকে একা পেয়ে লোহার রড দিয়ে রাজিব সহ ১০ থেকে ১২ হামলা চালায়। আমার মাথা ফেটে যায়।
আরও বলেন, গত ৫ আগষ্টের আগে রাজিব মানিকপুর এলাকার ব্লাক রুবেলের সহযোগী ছিলেন। ৪ আগষ্ট ছাত্র-জনতার উপর হামলা জড়িত ছিলেন। ব্লাক রুবেল পালিয়ে গেলেও রাজিব এখন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে চাচ্ছেন।
এদিকে, অভিযোগের বিষয় রাজিব এর সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে। এলাকায় তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
সদর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রুহুল আমিন জানান, রাত সাড়ে ৮ টার আগে পরে দুই ভাইকে হাসপাতালে আনা হয়। দু’জনেরই মাথায় কাটা রয়েছে।
সদর থানার ডিউটি অফিসার এসআই মো. রিয়াজ বলেন, আমি ঘটনার খবর পেয়ে গনকপাড়া এলাকায় গিয়েছিলাম। ডাব পারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারি হয়েছে। আহতদের পক্ষ থেকে অভিযোগ দিলে, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।