শীতের সকাল বিকাল মায়ের হাতে বানানো হরেক রকমের পিঠা খাওয়ার স্বাধ ও নানা ধরনের আয়োজন ছিলো প্রায় বাড়িতে । কালের বিবর্তনে এগুলো হারিয়ে গেছে । বর্তমানে সেই আগেগার মতো পরিবেশ নেই যার জন্য বাড়ি বাড়ি পিঠা বানানো ও খাওয়ার আয়োজন নেই ।
চলছে মাঘ মাস শীতকাল। শীতের সকাল বিকাল হরেক রকমের পিঠা খাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ে বিভিন্ন এলাকার রাস্তার পাশে ও বিভিন্ন ফুটপাতে । শীতের সন্ধ্যায় ভাপা পিঠা, চিতই পিঠাসহ বিভিন্ন রকমের পিঠা গজারিয়া উপজেলার সকল এলাকায় রাস্তার মোড়ে ফুটপাতে সকল শ্রেণির পেষার মানুষকে পিঠা খাইতে দেখা যায় । গত দশ বছর যাবত পিঠা বিক্রি করে সংসার চালিয়ে ছেলেমেয়েদের লেখা পড়া করে মানুষ করতেছেন ষাটোর্ধ ছখিনা বেগম । ভাটের চর এলাকায় পিঠা বিক্রেতা রোজী বেগম জানান শীত আসলে আমি পিঠা বিক্রি করে আমার সংসার চালাই ।
জামালদি বাসস্ট্যান্ডে একাধিক স্হানে এধরণের পিঠার দোকান থেকে বিভিন্ন পেষার মানুষকে পিঠা খাইতে দেখা যায়। কথা হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন নবী মিয়ার সাথে। চাকরির সুবাদে গজারিয়ায় থাকেন স্ত্রী সন্তান নিয়ে মাঝে মধ্যে পিঠা খাওয়া ও বাসার জন্য এখান থেকে কিনে নিয়ে যায় ।
তিনি আর-ও বলেন এখন আর আগেরকার মতো বাসায় পিঠা বানানোর পরিবেশ নেই বললেই চলে যার জন্য বেশির ভাগ সময়ে দোকান থেকে পিঠা কিনে বাসায় গিয়ে সবাই মিলে খাই । পিঠা বিক্রেতা কবির হোসেন বলেন আমি ১৫ -২০ বছর যাবৎ শীত আসলে ভাবা পিঠা ও চিতই পিঠা বিক্রি করি। দুই তিন মাস খুব ভালো চলে। তিনি আরও বলেন সকাল থেকে বিকালে বেশি চলে ।
বিকাল চারটায় শুরু করি রাত দশটা পর্যন্ত লোকজন দাড়িয়ে থাকে পিঠার জন্য কিছু লোক এখানে দাঁড়িয়ে মনের স্বাচ্ছন্দ্যে খেয়ে তৃপ্তি নিয়ে বাসায় যায় আবার কেউ কেউ বাসার জন্য কিনে নিয়ে যায় । পোষ পার্বনের পিঠা নিয়ে সাধারন মানুষের অভিমত আগেরকার মতো গ্রাম বাংলার মা চাচিদের হাতে বানানো পিঠা খাওয়ার আয়োজন আর হবে না । কালের বিবর্তনে এগুলো হারিয়ে গেছে ।
এ-যুগে ফুটপাতে চলছে পিঠা বিক্রি এখান থেকেই আমাদের কিনে বাসায় গিয়ে পিঠা খাওয়ার উৎসব পালন ও উপভোগ করতে হবে ।