মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি-
মুন্সীগঞ্জের পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের রুহিতপুর এলাকায় রাতের আধাঁরে এক বসত বাড়ির পাকের ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় রুহিতপুরের বাসিন্দা বাড়ির বড় ছেলে সুমন কুমার সরকার (৪৬) শনিবার দুপুর ২ টার দিকে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। সুমন সরকার রুহিতপুর এলাকার মৃত হরিপদ সরকারের ছেলে।
জানা গেছে, গেলো শুক্রবার রাত অনুমান সাড়ে ১০ টার দিকে অভিযোগকারীর পরিবারের লোকজন রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে শনিবার রাত দেড়টার দিকে আগুন আগুন বলে প্রতিবেশী লোকজন চিৎকার করলে ঘুম থেকে উঠে ঘর থেকে বের হওয়ার চেস্টা করলে বসত ঘরের বাহির থেকে অভিযোগকারীর ঘরের দুই দরজার শিকল কে বা কারা আটকিয়ে রাখে।
স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ঘর থেকে বের হয়ে দেখেন অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা বাড়ীর পাকের ঘরে কে বা কারা পেট্রোল বা অকটেন দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনের কারণে পাক ঘর সহ ঘরের ভিতরে থাকা আসবাবপত্র আগুনে পুড়ে ভষ্মিভূত হয়ে ক্ষতি সাধন হয়। স্থানীয় প্রতিবেশী লোকজনের সহযাগিতায় পানি ঢেলে আগুন নেভানো হয়।
শনিবার সকালে সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, দুর্বৃত্তরা প্রথমে থাকার ঘরটিতে আগুন লাগানোর চেষ্টা করে। পরে ব্যর্থ হয়ে পাকের ঘরে আগুন লাগিয়ে চলে যায়।
স্হানীয়রা জানান, রাত প্রায় দেড়টার দিকে আগুনের সূত্রপাত। আগুন আগুন চিৎকার শুনে আগুন লাগা ঘরের সামনে গিয়ে পানি ঢেলে আগুন নিভাতে সক্ষম হয়। তবে পাকের ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পানির ব্যবস্থা না থাকলে হয়তো এই ঘরের সাথে আরো অন্যান্য ঘরে আগুন লেগে যেতে পারতো।
এ ব্যাপারে অভিযোগকারীর মা শিখা রানি সরকার জানান, মধ্যরাতে আগুন দেখে ঘর থেকে বেরোনোর চেষ্টা করলে দেখি ঘরের দুই দিকের দরজার বাহির থেকে লাগানো। পরে অনেক জোরে জোরে আগুন আগুন বলে চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন এসে আগুন নিভাতে সক্ষম হয়। আমার কিংবা আমার ছেলেদের কারো সাথে শত্রুতা নাই। কারা আমার এত বড় ক্ষতি করল আমি এর বিচার চাই।
প্রতিবেশী উজ্জ্বল খান জানান, রাত পৌনে দুইটার দিকে আগুন লাগানোর হইচই শুনে আমি সহ আমার ছেলেরা এবং আশেপাশের লোকজন এসে অনেক চেষ্টা করে আগুন নিভাই। এর আগে এমন ঘটনা কখনো হয়নি। যারাই এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
অভিযোগকারী সুমন কুমার সরকার জানান, আমার জানামতে কারো সাথে আমাদের কোন শত্রুতা নাই। কে বা কারা আমার বসতঘরের পাকের ঘরে আগুন লাগিয়েছে তা সুনির্দিষ্ট ভাবে আমার কাউকে সন্দেহ হয় না। তবে যে আমার সাথে শত্রুতা করেছে তার উপযুক্ত বিচার সৃষ্টিকর্তা করবে। আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে বিচার দিয়ে রাখলাম।
এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম জানান, ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।