সংবাদ শিরোনাম :
মুন্সীগঞ্জে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে টঙ্গীবাড়ীতে স্বজনপ্রীতি করে আশ্রয়ণের ঘর বরাদ্দের অভিযোগ। মুন্সীগঞ্জ জেলা যুবদলের কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ পেলেন মহাসিন খাঁন বাবু মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শামীম ওসমান ভূঁইয়াকে দেখতে চান স্থানীয়রা টঙ্গিবাড়ীতে অবৈধ ড্রেজার পাইপলাইন ধ্বংস, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান কামারখাড়াকে মডেল ইউনিয়ন করতে চান চেয়ারম্যান প্রার্থী নজরুল মোল্লা ডিসিএ আইকনিক অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন রেনেসাঁ ডায়াগনস্টিক কেয়ারের স্বত্বাধিকারী ও নারী উদ্যোক্তা জেসমিন জুলিয়া এসএসসি-৯৬ ব্যাচের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে আগুন, ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় রক্ষা বেতকায় চেয়ারম্যান প্রার্থী মহসিন খান বাবু নির্বাচনী প্রচারণা ব্যস্ত সময় পার করছেন 
অবশেষে গণকবরে শনাক্ত হলো মুন্সীগঞ্জের শহীদ সোহেল রানার লাশ

অবশেষে গণকবরে শনাক্ত হলো মুন্সীগঞ্জের শহীদ সোহেল রানার লাশ

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অজ্ঞাত পরিচয়ে দাফনকৃত শহীদদের লাশ শনাক্তকরণ কার্যক্রমে অবশেষে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বাসিন্দা শহীদ সোহেল রানার পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে আরও সাতজন শহীদের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানে লাশ উত্তোলন ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সিআইডি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

 

সিআইডি জানায়, শনাক্ত হওয়া শহীদ সোহেল রানা (৩৭) মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ঘোড়দৌড়া এলাকার লাল মিয়ার ছেলে। তিনি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গত ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। তবে ঘটনার পর পরিবারের অজান্তে তার লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে রায়েরবাজারের গণকবরে দাফন করা হয়।

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে সোহেল ছিলেন সবার বড়। দেশের জন্য কিছু করার স্বপ্ন ছিল তার। পরিবার নিয়ে তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়িতে বসবাস করতেন। ১৮ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। পরবর্তী তিন দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। প্রায় এক মাস পর পরিবার জানতে পারে, সোহেলকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

 

সোহেলের ভাই জুয়েল ও নাবিল জানান, শাহবাগ থানা থেকে তাদের জানানো হয়, যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় শারীরিক নির্যাতনের পর সোহেলকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার শরীরে অসংখ্য গুলির চিহ্ন ছিল। মৃত্যুর প্রমাণ হিসেবে একটি সনদ, শাহবাগ থানার অজ্ঞাত-২৮ জিডি নম্বর ১৩৫৯-এর কপি এবং কয়েকটি ছবি পরিবারকে দেওয়া হয়। পরে জানা যায়, তাকে রায়েরবাজার কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছিল।

 

দীর্ঘ ১৭ মাস পর সন্তানের মরদেহ শনাক্ত হওয়ার খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েন শহীদ সোহেল রানার মা ও পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের আহাজারিতে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

 

এদিকে সিআইডি জানায়, এই কার্যক্রমে আরও যাদের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে তারা হলেন শহীদ ফয়সাল সরকার, শহীদ পারভেজ বেপারী, শহীদ রফিকুল ইসলাম (৫২), শহীদ মাহিম (২৫), শহীদ আসানুল্লাহ, শহীদ কাবিল হোসেন এবং শহীদ রফিকুল ইসলাম (২৯)।

 

সিআইডির তথ্যমতে, গত বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রায়েরবাজার কবরস্থানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে মরদেহ উত্তোলন ও ফরেনসিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। প্রতিটি মরদেহ উত্তোলনের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং ফরেনসিক চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ও কেমিক্যাল ল্যাবরেটরির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়।

 

সিআইডি আরও জানায়, এ পর্যন্ত অজ্ঞাত পরিচয় শহীদদের পরিবার ও আত্মীয়দের কাছ থেকে নয়টি পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমুনার মাধ্যমে ইতোমধ্যে আটজন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Facebook Comments Box





  1. © স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ দৈনিক নাগরিক বাণী
error: Content is protected !!