নিজস্ব প্রতিবেদক:
শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় তাজরীন গার্মেন্টস ট্রাজেডির ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় মানবেতর জীবন-যাপন করছেন আহত নিহত শ্রমিক ও তার পরিবার । শ্রমিক নেতাদের দাবি আলাপ আলোচনা শ্রদ্ধা আর গণমাধ্যমের প্রচারে আটকে আছে তাজরীন ট্রাজেডি। অথচ মূল হোতা কারখানার মালিক দেলোয়ার সহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় হতাশ শ্রমিক নেতা ও আহত নিহতের স্বজনরা
২০১২ সালের ২৪ শে নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের তাজরীন ফ্যাশন কারখানায় জলে ওঠে আগুনের লেলিহান শিখা । মুহূর্তেই মধ্যেই সেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে ভবন জুড়ে। তখন কারখানায় কাজ করছেন হাজারো শ্রমিক। বাইরে থেকে তালা বন্ধ থাকায় বের হতে পারেননি শ্রমিকরা । আগুন কেড়ে নেয় অনেক তাজা প্রাণ। আবার কেউ ভবন থেকে লাফ দিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ সহ আহত হয় প্রায় ২শতাধিক শ্রমিক।
সোমবার সকালে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন গার্মেন্টসের সামনে হতাহতদের স্মরণ করে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নিহত শ্রমিকদের স্বজন, আহত শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আহত শ্রমিকরা উপস্থিত হয়ে বলেন, আমাদের পরিবারের সদস্যদের আমরা হারিয়েছি। মালিকপক্ষ পরিকল্পিতভাবে আমাদের স্বজনদের হত্যা করেছে। আমরা মালিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এছাড়া এক জীবন পরিমাণ ক্ষতিপূরণের দাবি জানাই। আহত শ্রমিকরা এখনো অসুস্থতায় ভুগছে। তাদের পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা পর্যন্ত করা হচ্ছে না।
আহত শ্রমিক শফিকসহ নিহতের পরিবারের সদস্যরা বলেন, আমাদের পরিবারের সদস্যদের আমরা হারিয়েছি। মালিকপক্ষ পরিকল্পিতভাবে আমাদের স্বজনদের হত্যা করেছে। আমরা মালিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এছাড়া এক জীবন পরিমাণ ক্ষতিপূরণের দাবি জানাই। আহত শ্রমিকরা এখনো অসুস্থতায় ভুগছে। তাদের পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা পর্যন্ত করা হচ্ছে না। নতুন সরকারের কাছে আমরা পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানাই। তাদের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে পুরন করেনি কেউ। তাইতো পাওয়া না পাওয়ার হিসাব নিয়ে বসে আছেন আহত শ্রমিকরা।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, ‘২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ায় তোবা গ্রুপের গার্মেন্টস কারখানা তাজরিন ফ্যাশন লিমিটেডের মালিক দেলোয়ারের পরিকল্পিত লাগানো আগুনে ১১৪ শ্রমিক নিহত এবং প্রায় ২০০ জন গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া বহু শ্রমিক আহত আহত হয়ে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারখানা মালিক দেলোয়ারসহ দায়ী ব্যক্তিদের বিচার হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত সরকার শ্রমিকদের সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ, আগুনের ঘটনায় কারখানা মালিক দেলোয়ারসহ দায়ী ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করেনি বরং দলীয় পদ-পদবি দিয়ে পুরস্কৃত করেছে। বর্তমান সরকার শ্রমিকদের বারবার আশ্বাস দিয়ে আসছেন, কিন্তু আশ্বাস বাস্তবায়নের কোনও উদ্যোগ দেখছি না। সবাই শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।