লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় পাটের আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছে চাষিরা। উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কৃষকরা এখন রাস্তায় ও মাঠে পাটের আঁশ ছাড়ানো ও কোমর পানিতে ধোয়ার কাজ শুরু করেছে এলাকার কৃষক-কৃষানি ৷
এ উপজেলায় প্রধান অর্থকারী ফসল আলু ও ধান হলেও এক সময়ের আলু উত্তোলনের পার ব্যাপক হারে পাটের আবাদ হতো৷ বিলে পানির অভাবে দিনদিন পাটের আবাদ কমতে শুরু হয়েছে৷
কৃষকরা জানান, বর্ষায় নদী থেকে পানি প্রবাহ খাল এবং নালা দখল করে অবৈধ ভরাট স্থাপনা নির্মাণসহ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার কারণে বর্ষা মৌসুমে ও বিলগুলো থাকে পানিশূন্য তাই সোনালী আঁশ পাট পঁচানো নিয়ে নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হয় ৷
যার কারনে পাটের আবাদ কমতে শুরু হয়েছে৷ উপজেলার গাঁওদিয়া, কলমা, বৌলতলী, খেতেরপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে পাটের আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত অনেকেই। তবে এ কাজে নারীদেরই ব্যস্ত দেখা যায়।কৃষক পাট গাছ থেকে আশ ছাড়ানো সে পাট পানিতে ধুয়ে আবার রোদে শুকানো এ নিয়েই এখন কৃষকরা ব্যস্ততায় কাটাচ্ছে ৷
গাঁওদিয়া ইউনিয়নের হাড়িদিয়া গ্রামে পাটের আঁশ ছাড়ানোয় ব্যস্ত রাবেয়া বেগম (ছদ্ম নাম) বলেন, আমরা এখানে কাজ করছি পাটখড়ির জন্য৷ দুই আঁটি পাটের আঁশ ছাড়ালে এক আঁটি খড়ি আমি পাব। দিনে ৩০ থেকে ৪০ আঁটি পাটের আঁশ ছাড়াতে পারলে অর্ধেকটা খড়ি নেব বাকিটা মালিকের। এতে মালিকও লাভবান আমরাও লাভবান।
কৃষক ফরিদ ও ওয়াসিম বলেন, আমাদের এলাকায় জমিতে পাট ভালো হয়। কিন্তু পানির অভাবে অনেকেই পাটের আবাদ ছেড়ে দিয়েছে৷ খাল দখল ভরাটের কারনে বর্ষা মৌসুমে বিলগুলোতে পানির দেখা নেই৷ বৃষ্টিতে জমিতে জমা পানিতে পাট পচানো হচ্ছে ৷
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সুত্রে জানাযায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫২৮ হেক্টর জমিতে পাট চাষের আবাদ করা হয়েছে৷ যা গত বছরের তুলনায় ৫ হেক্টর কম।