
আসসালামু আলাইকুম।
আমি মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার আপনাদের জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে গত ৩১/৮/২০২৪ তারিখ গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যোগদান করে অদ্য ২৮-১১-২০২৫ তারিখ পর্যন্ত ১ বছর ৩ মাস সময় আপনাদের সেবায় নিয়োজিত ছিলাম। শুরুতে আপনাদের অনেককে রাত্রিবেলায় নিজেদের ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট পাহারা দিতে দেখেছি। তখন থেকেই প্রতিটি ক্ষণে নিরলস ভাবে কাজ করে আপনাদেরকে নিরাপদে রাখতে চেষ্টা করেছি। তবে এই কাজের হাতিয়ার হিসেবে পেয়েছিলাম দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক তোষনে পিষ্ট কিংকর্তব্যবিমূঢ় কিছু পুলিশ সদস্য, ভঙ্গুর অবকাঠামো, যানবাহনের তীব্র স্বল্পতাসহ নানা সমস্যা। পুলিশ সদস্যদেরকে ধীরে ধীরে কর্মমুখী করে তাদেরকে সাথে নিয়ে সীমিত যানবাহন ব্যবহার করে আপনাদের নিরাপত্তা প্রদানের সেবায় আত্মনিয়োগ করি। এই কাজে জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ছাত্র প্রতিনিধি, সিভিল সোসাইটি, সেনাবাহিনী, RAB, সাংবাদিক সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন ও আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছি। এজন্য আপনাদের সকলের প্রতি রইল অশেষ কৃতজ্ঞতা।
কাজ শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মনোবল ধীরে ধীরে ফিরে আসে এবং তাদের সহযোগিতায় মুন্সিগঞ্জ জেলায় অপরাধের ঘটনা দিন দিন কমতে থাকে। বিষয়টি এমন এক পর্যায়ে দাঁড়ায় যে যখন সারা বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে মর্মে বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা যাচ্ছিল, তখন মুন্সিগঞ্জ জেলার খুন, চুরি, দস্যুতা ও ডাকাতির সংখ্যা পূর্ববর্তী সকল সময়ের তুলনায় কমে যায় এবং সংঘটিত সকল অপরাধে অপরাধী গ্রেপ্তারের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
এই সময়ের মধ্যে আপনাদেরকে দেয়া সেবার মান বৃদ্ধির জন্য পুলিশের কাজে গতিশীলতা আনতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে যোগাযোগ পূর্বক ০৭ টি ডাবল কেবিল পিকআপ,০২ টি হায়েস মাইক্রোবাস,০২ টি লেগুনা, ও ০৫ টি মোটরসাইকেল সংগ্রহ করি। এছাড়া ধ্বংসপ্রাপ্ত ও জরাজীর্ণ ভৌত অবকাঠামো যেমন পুলিশ সুপারের কার্যালয় ভবন, মুন্সিগঞ্জ সদর থানা ভবন সার্বিক মেরামতসহ অন্যান্য পুলিশি স্থাপনার উন্নয়ন সম্পন্ন করা হয়। এই সময়ের মধ্যে গুয়াগাছিয়া অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প, বালুচর অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ও বাঘড়া অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। এছাড়া গুয়াগাছিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, বালুচর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, বাঘড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র এবং আলমপুর পুলিশ ফাড়ি স্থাপনের প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়। এসব তদন্ত কেন্দ্র এবং পুলিশ ফাঁড়ি প্রতিষ্ঠিত হলে জেলার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আপনাদের সেবায় আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করেছি। তবে এটাও সত্য যে কোন একটি নির্দিষ্ট সেবা আপনাদের যেভাবে এবং যত দ্রুত দেয়া প্রয়োজন ছিল, সকল ক্ষেত্রে তা সেইভাবে দেয়া সম্ভব হয়নি। এই ব্যর্থতাকে গ্রহণ করতে আমার বিন্দুমাত্র কার্পণ্য নেই। তবে আমার প্রত্যাশা, আপনারা আগামী দিনগুলোতে আরো ভালো এবং নিরাপদে থাকবেন। দোয়ায় রাখবেন.....
শুভেচ্ছান্তে, মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার
পুলিশ সুপার, মুন্সিগঞ্জ।