নিজস্ব প্রতিবেদক, মুন্সীগঞ্জ:
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের চাইনপাড়া গ্রামে নিখোঁজের ৫৩ দিন পর আওলাদ হোসেন (৬৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৯ মে আওলাদ হোসেন নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। পরদিন তার ভাই সিরাজদিখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ২৩ মে আওলাদ হোসেনের ছোট ভাই বেলায়েত হোসেন বাদী হয়ে আওলাদের স্ত্রী রানী বেগম, মানিক বেপারীসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
তদন্তের একপর্যায়ে গত ৩১ মে মানিক বেপারীকে আটক করা হয়। পরে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ৩০ জুন সাভারের একটি ডেইরি ফার্ম থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে রিপন ও বিন আমিনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাইনপাড়া গ্রামের একটি গরুর ফার্মের রান্নাঘরের মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় আওলাদ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর আওলাদ হোসেন রানী বেগমকে বিয়ে করেন। জমিজমা স্ত্রীর নামে লিখে দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং দ্বিতীয় বিয়ের ইচ্ছা প্রকাশকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ বিরোধের জের ধরে স্ত্রী রানী বেগম ও তার ভগ্নিপতি মানিক বেপারী হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৯ মে সন্ধ্যায় আওলাদ হোসেনকে কৌশলে একটি গরুর ফার্মে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে হত্যা করে মরদেহ রান্নাঘরের ভেতরে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
গ্রেফতার হওয়া চারজন হলেন— মানিক বেপারী (৩০), সাইফুল ইসলাম (৪২), রিপন (৩৪) ও বিন আমিন শেখ (৩৫)। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।