মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ১০০ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের চর ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সজিব মোল্লা (২৭), যিনি স্থানীয়ভাবে আলোচিত তুহিন হত্যা মামলার আসামি আরিফ মোল্লার ভাই বলে জানা গেছে।
অপর গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন আমঘাটা এলাকার মৃত জমির আলীর ছেলে আবু কালাম (৩০)।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ২টা ৪৫ মিনিটে জেলা পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম পিপিএম-এর নির্দেশনায় পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে মুন্সীগঞ্জ থানাধীন মুন্সীরহাট এলাকার মদিনা মেশিনারী অ্যান্ড স্যানেটারীর সামনের সড়কে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে এসআই (নিঃ) পলাশ কান্তি রায়ের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল ১০০ পিস ইয়াবাসহ ওই দুইজনকে আটক করে। পরবর্তীতে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
ডিবি পুলিশ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সজিব মোল্লা ও আবু কালাম দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় ইয়াবা সরবরাহ ও বিক্রির অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেছেন একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা। এছাড়াও স্থানীয়দের দাবি, তুহিন হত্যা মামলার আসামি আরিফ মোল্লার ভাই সজিব মোল্লার ইয়াবাসহ গ্রেফতারের ঘটনায় পূর্বে উত্থাপিত নানা অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছিল।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, মাদক সমাজ ও যুবসমাজের জন্য একটি বড় হুমকি। তাই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তারা তুহিন হত্যা মামলার আসামি আরিফ মোল্লা ও তার ভাই সজিব মোল্লার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের পাশাপাশি অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, মুন্সীগঞ্জ জেলাকে মাদকমুক্ত রাখতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।