মশিউর রহমান স্টাফরিপোর্টার:
দোহার উপজেলার জয়পাড়া হাট-বাজারের ’তোহা-বাজার’ এর সরকারি সম্পত্তির আংশিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেন উপজেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসক।
বুধবার সকালে জয়পাড়া বাজারে তোহা বাজারের সম্পত্তি হতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক তানিয়া তাবাসসুম। এ সময়ে অভিযানে সহযোগীতা করেন সেনাবাহিনীর সদস্য, দোহার থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও আনছার বাহিনী।
জানা যায় , জমি গুলোর মালিক জেলা প্রশাসক, অথচ বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয় স্থাপনা।
জয়পাড়া হাট বাজারের ‘তোহা বাজার' যা হাট ও বাজারের পরিসীমার মধ্যে প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের নিমিত্তে সংরক্ষিত । জমিটি বিগত ২০১২-১৩ সালে প্রভাবশালীরা দখলে নেন।সে সময়ে তোহা বাজারের প্রায় অর্ধ একর জমিতে দখলের মাধ্যমে ভাগ বাটোয়ারা করে দোকান নির্মণ করেন তৎকালীন সময়ের আওয়ামী প্রভাবশালীরা। এরপর বিষয়টি হালাল করতে পৌরসভা মেয়রের মাধ্যম হয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে বন্দোবস্ত চেয়ে তৎকালীন ঢাকা-১ আসনের এমপি একটি ডিউ লেটার দেন পৌরসভা। এক পর্যায়ে ঢাকা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমানের নির্দেশে দখল বাস্তবায়িত হয়।
সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় কৃষকদের উৎপাদিত ফসল সাপ্তাহিক হাট-বাজারের বিক্রির জায়গা না পাওয়ায় হতাশ কৃষকরা বিষয়ে আলোচনা করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক তানিয়া তাবাসসুম। সভায় সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহনের মাধ্যমে অভিযানের দিনক্ষণ চুড়ান্ত হয়।
আজকের অভিযানে প্রায় ২১ টি অবৈধ দোকানের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এসময় বিপুল পরিমান দোকানের লোহার সামগ্রী নিলামে বিক্রয় করা হয়।
এ বিষয়ে জয়পাড়া বড় বাজার ও হাট-বাজারের সভাপতি এস এম কুদ্দুস জানান, সকাল থেকেই বৃষ্টির মধ্যে উদ্ধার অভিযান চলেছে। ব্যবসায়ীদের জান-মালের যেন ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে দৃষ্টি রেখে সকাল থেকেই অভিযানে পরিচালনা করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলার সহকারী কমিশনার(ভুমি) মো.তাসফিক সিবগাত উল্লাহ জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ সরকারি সম্পত্তি প্রভাবশালীরা দোকান নির্মান করে দখলে রেখে সরকারি স্বার্থ লঙ্ঘিত করেছেন। ভবিষ্যতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক তানিয়া তাবাসসুম জানান, তোহা বাজারের প্রায় অর্ধ একর সম্পত্তি হতে আংশিক ১৫ শতাংশ পরিমান জমি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত জমিতে প্রকৃত কৃষকগন তাদের উৎপাদিত ফসল রেখে বিক্রি করতে পারবে।