নিজস্ব প্রতিনিধি মুন্সিগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বেতকা ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। নিজস্ব বাড়িঘর ও আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেউ কেউ সরকারি আশ্রয়ণের ঘর বরাদ্দ নিয়ে দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অন্যদিকে প্রকৃত ভূমিহীন ও অসহায় পরিবারগুলো সরকারি ঘর পাওয়া থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেতকা ইউনিয়নের দী,পাড়া এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬টি ঘরের মধ্যে মাত্র ৩টি ঘরে পরিবার বসবাস করছে। বাকি ৩টি ঘর তালাবদ্ধ ও অন্যদের দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ রায়পুরা এলাকায় ২৮টি ঘরের মধ্যে মাত্র ১৩টি ঘরে লোকজন বসবাস করছেন। বাকি ঘরগুলোর অধিকাংশই তালাবদ্ধ। কোনো কোনো ঘরে কাঠ-লাকড়ি রাখা হয়েছে, আবার কিছু ঘর সম্পূর্ণ খালি পড়ে রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, যাদের নিজস্ব বাড়িঘর ও আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে, তাদের মধ্যেও কেউ কেউ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়েছেন। অথচ প্রকৃত ভূমিহীন ও অসহায় অনেক পরিবার এখনো মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজছেন।
তাদের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কিছু ব্যক্তিকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকৃত ভূমিহীনরা সরকারি এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রতিটি ঘরের বরাদ্দ ও বর্তমান দখল পরিস্থিতি সরেজমিনে তদন্ত করতে হবে। যাদের নিজস্ব বাড়িঘর থাকা সত্ত্বেও নিয়মবহির্ভূতভাবে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাদের বরাদ্দ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি তালাবদ্ধ ও খালি পড়ে থাকা ঘরগুলো প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারের নামে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে বেতকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুকুনুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন, এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আমরা আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেব।”
সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের আবাসন নিশ্চিত করা। তাই প্রকৃত উপকারভোগীদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।