
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সুবচনী বাজার এলাকার তালতলা ডহুরী খালে প্রচন্ড স্রোতে বাল্কহেড হতে নিজের ট্রলারকে রক্ষা করতে গিয়ে পানিতে পরে নিখোজের ২৪ ঘন্টায়ও সন্ধান মেলেনি ট্রলার চালক আঃ কাদির মাঝির। বৃহস্পতিবার (২১ম আগষ্ট) সকাল ৭ টা হতে সন্ধা ৬ টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভসের ডুবরী দল ওই খালে ডুবিয়ে কোন সন্ধান পাননি ওই ট্রলার চালকের।
সন্ধা ৬ টায় আজকে মতো উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করা হয়েছে। আগামীকাল পানির উপরে ভেসে উঠবে ওই মাঝির মৃতদেহ বলে জানান ফায়ার সাভিস তাই তারা আগামীকাল পানির উপরে সন্ধান চালাবেন বলে জানিয়েছেন।
এর আগে বুধবার (২০ আগষ্ট) সন্ধা ৬ টার দিকে নিজ ট্রলার হতে পানিতে পরে নিখোজ হয় কাদির মাঝি। সে উপজেলার চাষিরী গ্রামের মৃত তালেবর মাঝির ছেলে।
জানাগেছে, ওই খালে বাল্কহেড চলাচল মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন কর্তৃক নিষিদ্ধ ।২০২৩ সালের ৫ আগষ্ট পিকনিকের ট্রলার ডুবে ১০ জন নারী ও শিশু নিহতের ঘটনায় এবং বাল্কহেডের ঢেউয়ে খালের দু-পার ভেঙ্গে যাওয়ায় ওই খালে বাল্কহেড চলাচল নিষিদ্ধ ঘোসনা করে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন। তারপরেও কতিপয় চাদাঁবাজ বাল্কহেড মালিকদের কাছ হতে টাকা নিয়ে ওই খালে বাল্কহেড চলাচলে সহয়তা করে আসছিল।
গত ১২ আগষ্ট লৌহজং উপজেলা প্রশাসন ওই খালে ট্রলার চলাচলে জিরো ট্রলারেন্স ঘোসনা করে। তারপরেও চাদাঁবাজদের সহয়তায় বালু ভর্তি বাল্কহেড চালাচ্ছিল কতিপয় ব্যাক্তি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সন্ধার আগে কাদির মাঝি ট্রলারে দুই যাত্রী নিয়ে সুবচনী বাজার এলাকা হতে পাশের লৌহজং উপজেলার আদাবাড়ি এলাকায় যান। দুই যাত্রীকে পার করে অপর এক যাত্রী নিয়ে সুবচনী ঘাটে ফিরছিলেন কাদির মাঝি। এ সময় সুবচনী ঘাটে পূর্বে হতে নোঙর করে রাখা ছিলো দুটি বাল্কহেড। প্রচন্ড স্রোতের কারনে ধলেশ্বরী নামের বাল্কহেডের নিচে ঢুকে যায় কাদির মাঝির ট্রলারটি। এ সময় কাদির মাঝি নিজ ট্রলারটি রক্ষ করতে এগিয়ে আসলে বাল্কহেডের নিচের অংশ তার মাথার মধ্যে লেগে গুরুতর আহত হয়ে পানিতে পরে নিখোঁজ হন আমির মাঝি। তবে ওই ট্রলারে থাকা যাত্রী সাতরিয়ে পারে উঠতে সক্ষম হন। পরে ঘাতক বাল্কহেডটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থাণীয়রা ট্রলার নিয়ে বাল্কহেডের চালক সুকানিসহ ৪ জনকে আটক করে উত্তমাধম দিয়ে পুলিশে সোপাদ্দ করে।
এ ব্যাপারে নিখোঁজ কাদির মাঝির ভাতিজা সুমন বলেন, আমার চাচা আদাবাড়ি গেছিলো যাত্রী নিয়ে ফেরার পথে একজন যাত্রী নিয়ে সুবচনী এলাকায় আসছিলো। এ সময় তার ট্রলারটি প্রচন্ড স্রোতে বাল্কহেডের নিচে ঢুকে গেলে সে মাথায় ব্যাথা পেয়ে পানিতে তলিয়ে যায়। পরে ঘাতক বাল্কহেডটি পালিয়ে অনেক দুর চলে যায়। আমারা গিয়ে বাল্বহেডের লোকজনসহ বাল্কহেডটিকে আটক করে নিয়ে আসি। তিনি আরো বলেন তার চাচা ২৫ বছর যাবত মাঝির কাজ করেন। তার দুই ছেলে মালয়শিয়া প্রবাসী। তার দুটি মেয়ে রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মুন্না বলেন, বাল্বহেডটি সুবচনী বাজারের সালাম ডক ওয়ার্ডের সামনে নোঙর করা ছিল প্রতিদিনই সালাম ডক ওয়ার্ডের সামনে চার-পাঁচটা বাল্কহেড রাখা থাকে। । কাদির মাঝি ছোট ট্রলার চালায়। তার ট্রলারটি যাত্রী পার করে ফেরার সময় প্রচন্ড স্রোতে বাল্কহেডের নিচে ঢুকে যায়। এ সময় সে তার ছোট ট্রলারটি সেভ করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেভ করতে গিয়ে মাথায় প্রচন্ড ব্যাথা পেয়ে সে তলিয়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
টঙ্গিবাড়ী ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ আতিকুর রহমান জানান, আমরা আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭ টা হতে উদ্ধার অভিযান শুরু করি। সন্ধা ৬ টা পর্যন্ত ডুবিয়ে পানির নিচে সন্ধান করেও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। আগামীকাল শুক্রবার তার মৃতদেহ ভেসে উঠার কথা তাই পানির উপরে সন্ধান চালানো হবে।
টঙ্গিবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মহিদুল ইসলাম বলেন, ওই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। আটক চারজনকে আদালতে প্রেরণ করেছে নৌ পুলিশ।