গজারিয়া ( মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের বসুরচর ফেরীঘাট দিয়ে গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সাথে সংযোগ সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
দীর্ঘদিন ধরে নদী পারাপারে ভোগান্তির কারণে নতুন বসুরচর থেকে বড় বসুরচর পর্যন্ত নদীর উপর একটি সেতু (ব্রিজ) নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান তারা।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে চারটায় বসুরচর পাঁচগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা এ দাবি জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা এবং সঞ্চালনা করেন মনসুর আলম টিপু মাস্টার।
সভায় বিভিন্ন গ্রাম থেকে আগত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গজারিয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার দিদার আলম, আঃ বারেক ঢালী, জহিরুল ইসলাম জজ, মোহাসিন মিয়া, আবুল কাসেম সরকার, আঃ খালেক মুন্সি, মোঃ সেলিম মিয়াজী, নাছির উদ্দিন, কামরুল ইসলাম, জিলানী বেপারী, ইকবাল মিয়াজী, তাহের আলী ফকির, মাসুম বেপারী, শাহীন, মনির হোসেন, আলম মুন্সী, মুর্শিদ ফকির, মোগলের মিয়া, আবুল হাশেম মেম্বার, সৈয়দ আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এলাকাবাসীর দাবি, ছোট বসুরচর, বড় বসুরচর, ভাষারচর, দত্তেরচর, কদমতলী, নতুন চরচাষী ও গুয়াগাছিয়া গ্রামের প্রায় চল্লিশ হাজারের বেশি মানুষ প্রতিদিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে নদী পারাপারের দুর্ভোগে পড়েন। বসুরচর ফেরীঘাট দিয়ে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে এসব এলাকার মানুষ সহজেই ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাথে সংযুক্ত হয়ে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দ্রুত যাতায়াত করতে পারবেন।
দত্তেরচর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আলাউদ্দিন বলেন, “নদী থাকার কারণে আমরা অনেকটা পিছিয়ে আছি। একটি সেতু হলে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।”
টিপু মাস্টার বলেন বলেন, বছরের পর বছর আমরা ফেরিঘাট ও নৌকার উপর নির্ভরশীল। একটি সেতু নির্মাণ হলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমে যাবে।
মাসুম বেপারী বলেন, এই এলাকায় কৃষিপণ্য ও বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে অনেক সমস্যা হয়। সেতু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে এবং এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার দিদার আলম বলেন, গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া–গুয়াগাছিয়া সংযোগ সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে বসুরচর ঘাটের দিকটি সবচেয়ে উপযোগী ও বাস্তবসম্মত। কারণ বাউশিয়া গ্রামের ভেতর দিয়ে সড়ক নির্মাণ করতে গেলে অনেক বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বসুরচর ঘাটের দুই পাশে ইতোমধ্যে প্রশস্ত রাস্তা দৃশ্যমান রয়েছে। ফলে এ দিক দিয়ে সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করলে বসতবাড়ি উচ্ছেদ কম হবে, ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের ব্যয় কমবে এবং দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
এছাড়া এটি ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের খুব কাছাকাছি হওয়ায় জাতীয় মহাসড়কের সাথে সহজ সংযোগ স্থাপন করা যাবে।
এলাকাবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে বসুরচর ফেরীঘাট দিয়ে বসুরচর নতুন চরচাষি সংযোগ সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।