
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদীর শাখা ফুলদী নদী থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক তরুণীর লাশের রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত গণধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড।
এ ঘটনায় জড়িত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই মুন্সীগঞ্জ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৯ মে গজারিয়ার ফুলদী নদী থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক অজ্ঞাতনামা নারীর গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের অবস্থা বিকৃত হওয়ায় প্রথমে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে।
নিহত তরুণী হলেন হালিমা আক্তার (১৯)। তিনি গজারিয়া উপজেলার জামলদী (হোসেন্দী) গ্রামের মো. মহসিন বেপারীর মেয়ে। পরিচয় শনাক্তের পর নিহতের বোন হোসনেয়ারা আক্তার বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় পিবিআইয়ের একটি বিশেষ দল ৩০ মে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আবু কালাম (৪৮), জামাল হোসেন (৪৪), রাসেল মিয়া (৪৪) এবং আলামিন প্রধান (৫০)। তারা সবাই গজারিয়া উপজেলার বড় ভাটেরচর এলাকার বাসিন্দা বা ভাড়াটিয়া।
পিবিআই জানায়, জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামিরা জানান, নিহত হালিমা আক্তারের কাছে আবু কালামের প্রায় ২৫ হাজার টাকা এবং রাসেল মিয়ার ১০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। এছাড়া জামাল হোসেনের সঙ্গে হালিমার ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সম্মানহানির আশঙ্কা থেকে তারা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে গজারিয়ার হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ভেতরে বৈঠক করে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ২৬ মে সন্ধ্যার পর কৌশলে হালিমাকে ডেকে এনে নৌকাযোগে বড় ভাটেরচরের একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক গণধর্ষণ করা হয়।
তদন্তে আরও জানা যায়, ধর্ষণের পর তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহের হাত-পা বেঁধে ফুলদী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার চার আসামিই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, দ্রুত তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।