বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের শত বছরের ঐতিহ্য ও আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল এখানকার বিশালাকার দিঘি এবং এর বাসিন্দা কুমিরেরা। দীর্ঘদিন পর মাজার কমিটি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে—এই দিঘিতে থাকা সর্বশেষ অবশিষ্ট কুমিরটিকেও অবশেষে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে। দর্শনার্থী ও প্রাণী উভয়ের নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মাজার কমিটি এবং বাংলাদেশ বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে। সম্প্রতি মাজার কমিটির এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে দিঘি থেকে কুমির সরানোর এই সিদ্ধান্ত পাস হয়। দীর্ঘকাল ধরে এই কুমিরগুলো দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ কৌতূহল ও ভক্তির বিষয় থাকলেও, সাম্প্রতিককালে নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনা করে এই পদক্ষেপ নেওয়া অনিবার্য হয়ে পড়েছিল।
বিভাগের অভিজ্ঞ দল এই স্থানান্তর প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত যত্ন ও সতর্কতার সাথে পরিচালনা করবে। তাদের কারিগরি সহায়তা ও নির্দেশনা অনুযায়ী দিঘি থেকে কুমিরটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হবে। উদ্ধারের পর, কুমিরটিকে সুন্দরবন বা অন্য কোনো উপযুক্ত ও নিরাপদ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে মুক্ত করে দেওয়া হবে, যেখানে সে তার স্বাভাবিক প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারবে।
মাজার কমিটি মনে করে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একদিকে যেমন মাজার প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে প্রাণীটির জন্যও একটি ভালো জীবন নিশ্চিত হবে। এটি শুধুমাত্র একটি স্থানান্তরের বিষয় নয়, বরং আধুনিক সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ঐতিহ্য রক্ষার ক্ষেত্রে একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ।